দীর্ঘ সময়ের অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার পর বাজারে ক্রেতাদের অংশগ্রহণ বাড়তে দেখা যায়, যা সূচকের ধারাবাহিক উত্থানে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও কিছুটা আস্থার পুনরুদ্ধার দেখা গেছে। বাজারের মূল সূচকগুলো ঊর্ধ্বমুখী থাকায় বড় ও মধ্যম মূলধনি শেয়ারগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে।
বিশেষ করে ব্যাংক, বস্ত্র, প্রকৌশল এবং কিছু উৎপাদনমুখী খাতে সক্রিয় লেনদেন বাজারের গতি বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে কিছু নির্দিষ্ট কোম্পানির শেয়ারের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি পুরো সূচকের উত্থানে ভূমিকা রেখেছে। গত সপ্তাহে অধিকাংশ শেয়ারের দর বৃদ্ধি পাওয়া থেকে বোঝা যায় বিক্রির চাপের তুলনায় চাহিদা কিছুটা শক্তিশালী ছিল।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৪১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬৬১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ৭০ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৪৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ৭৩ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে ৩৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৫০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ১১৫ পয়েন্ট।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৯০টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৩২২টির, কমেছে ১৪৬টির ও অপরিবর্তিত ছিল ২২টির। আর লেনদেন হয়নি ২২টির। গত সপ্তাহে সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ইসলামী ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, পূবালী ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে দৈনিক গড়ে প্রায় ১ হাজার ২৮৪ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল প্রায় ১ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে দশমিক ৩০ শতাংশ।
খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে বস্ত্র খাতের শেয়ারের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১২ দশমিক ৮ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে বস্ত্র খাত। ১২ দশমিক ১ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল সাধারণ বীমা খাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ওষুধ ও রসায়নের দখলে ছিল লেনদেনের ১০ দশমিক ৮ শতাংশ। ব্যাংক খাত ১০ দশমিক ৭ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা প্রকৌশল খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ১০ দশমিক ৩ শতাংশ।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি ৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে। ৪ দশমিক ৮১ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা মিউচুয়াল ফান্ডের দখলে ছিল লেনদেনের ৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ। ব্যাংক খাত ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা সিমেন্ট খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ।
সিএসইতে গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১৫ হাজার ৩৫৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৫ হাজার ১৯৫ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ৩৯০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৯ হাজার ৩২০ পয়েন্ট।
সিএসইতে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া ৩৩০টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৯৪টির, কমেছে ১১১টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২৫টির বাজারদর।